এ কালের সুপারহিরো!!!

প্রযুক্তির কল্যানে হোক বা সময়ের বিবর্তনে হোক অথবা পরিচালকদের উদারতার কারণেই হোক এটা সবাইকে এক বাক্যে স্বীকার করতে হবে যে বাংলা সিনেমার সাকিব খান বা অনন্ত জলিলেরা এই মুহূর্তে পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর নায়ক। তাইতো সাকিব খান মায়ের অপারেশনের দুই লাখ টাকা দুই দিন রিকশা চালিয়ে শোধ করে দিতে পারেন অথবা পৃথিবীর আর কোন হিরো কি পারবে অনন্ত জলিলের মত নিজের বুক চিরে নিজের হাত দিয়ে হৃদয় টেনে বের করে দেখাতে!!!! চ্যালেঞ্জ রইলো শাহরুখ খান অথবা টম ক্রুজদের প্রতি। আপনাদের বুকের পাটায় বল থাকলে রিকশা চালিয়ে দুই দিনে দুই লাখ টাকা শোধ করে দেখান অথবা নিজের বুক চিরে স্বহস্তে হৃদয় টেনে বের করে দেখান। তবে বাংলার নায়কদের এই অসীম ক্ষমতা একদিনে হয়নি বরং এর জন্য পূর্ববর্তী নায়কদের অনেক কাঠ খড় ও আত্মত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। এই মুহূর্তে দুজন নায়কের কথা খুব মনে পড়ছে যারা ছিল নামে মাত্র নায়ক কিন্তু তাদের কোন সুপার পাওয়ার ছিল না। এমনকি তারা এতই দয়ালু ছিলেন যে তারা কখনোই খলনায়কদের গায়ে হাত পর্যন্ত তুলেনি শুধু আজীবন অভিশাপ দিয়ে গেছেন। তারা এতোই সৎ ছিলেন যে অভাবে না খেতে পেয়ে মরেছেন তবুও অসৎ পন্থা অবলম্বন করেননি বা স্মাগলার ছেলের কাছ থেকে একটি টাকাও নেননি। নায়ক দুজন হলেন আনোয়ার হোসেন এবং প্রবীর মিত্র। যতদূর মনে পড়ে ১৯৯৭ সালের আগে আমাদের দেশের একমাত্র বাংলা চ্যানেল বলতে শুধু বিটিভি ছিল। তখন প্রতি শুক্রবার দুপুরে বাংলা সিনেমা প্রচারিত হতো বিটিভিতে। সবাই সিনেমা দেখার জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করতো। যেহেতু বয়স কম ছিল তাই মারপিঠের সিনেমা গুলোই বেশি ভালো লাগতো। কিন্তু মেজাজটা তখনই বিগড়ে যেতো যখন দেখতাম ঐ ছবিতে আনোয়ার হোসেন অথবা প্রবীর মিত্র আছেন কারণ তাদের কখনোই মারপিঠের দৃশ্য হবেনা। অথচ তারা দুজনই সিরাজউদ্দৌলা চরিত্র অভিনয় করেছেন। যখন বিটিভি তে সিরাজউদ্দৌলা সিনেমা দেখাতো তখন অনেক কষ্ট পেতাম এই ভেবে যে এটা কেমন নায়ক যে প্রতিশোধ না নিয়েই মৃত্যু বরন করছে অনেক মায়া হতো তখন উনাদের প্রতি। আমার সামর্থ এবং ক্ষমতা থাকলে আনোয়ার হোসেন কে নিয়ে বাংলাদেশী ধুম তৈরী করতাম এবং পুনরায় এ যুগের সিরাজউদ্দৌলা তৈরি করে উনাদের দিয়ে প্রতিশোধ নেওয়াতাম। তবে বাংলা সিনেমা এখন অনেক এগিয়েছে আমাদের নায়কদের এখন অসীম ক্ষমতা। তাইতো আমাদের আছে সকল অসম্ভব কে সম্ভব করার মতো নায়ক অন্ন্ত জলিল এবং ঢাকা মেডিকেল থেকে বি.এ. এবং বুয়েট থেকে এম.এ. পাশ করে চৌধুরী সাহেবের মেয়েকে বিয়ে করে বাবা মায়ের স্বপ্ন পূরণের যোগ্যতা সম্পন্ন নায়ক সাকিব খান। সবশেষে এটুকুই বলি দেশী পন্য দেখে হোন ধন্য।
১৮ জুলাই, ২০১৪

Published by Lawless Lawyer

a lawless lawyer...

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started